মাল্টি টাস্কিং

লেখক - ডাঃ শুভব্রত ভক্ত



নানান ব্যস্ত বেসরকারী অফিসে ঢুকলে এই ছবিটা খুব চোখে পড়ে; ডেস্কে কোনো এক কর্মচারী একহাতে একটা ফোন কানে চেপে রয়েছেন। আর একটা ফোন গাল আর কাঁধে চেপে কানে ধরা। অন্য হাতে টপাটপ টপাটপ টাইপ করে চলেছেন ল্যাপটপে।

 


শুধু কি অফিসে!  বাড়িতেও হামেশাই দেখা যায় গৃহিনীদের রান্না করতে করতে একইসাথে বাচ্চাকে খাওয়াতে পড়াতে, ফোনে কথা বলতে, সিরিয়াল দেখতে ইত্যাদি।

এই যে একইসাথে একাধিক( পরষ্পরের সাথে তেমন সম্পর্কিত নয়)  কাজে মনযোগ কে ভাগ করে নেওয়া, এটাকেই multi-tasking(mt)বলে। গাড়ির স্টিয়ারিং ঘোরাতে ঘোরাতে ফোনে কথা বলা multitasking(mt),  কিন্তু গাড়ি চালাতে চালাতে হর্ণ বাজানো নয়( কারণ দুটিই গাড়ি চালানোর অন্তর্গত)।

আপাতদৃষ্টিতে এই mt কে বেশ চমকপ্রদ এবং প্রয়োজনীয় ক্ষমতা বলে ধরে নেওয়াই স্বাভাবিক। যারা এরকম চটপট একসাথে অনেক কাজ করে থাকেন, তাদের খুব স্মার্ট বলেই মনে হয়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে হয়তো সাময়িক সুবিধা ও পরিতৃপ্তি হয়, আত্মবিশ্বাস বাড়ে। কাজে flexibility ( নমনীয়তা) এবং adaptability ( মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা)র পরিচয় পাওয়া যায়।  কিন্তু পর্যবেক্ষণ এবং গবেষণায় এটা প্রমাণিত হয়েছে যে mt কিন্তু আসলে ততটা সদর্থক কিছু নয়। এর সুদূরপ্রসারী কু-ফল রয়েছে। বরং এক এক সময়ে এক একটা কাজ করাই বেশির ভাগ ক্ষেত্রে কাজে দেয় বেশি। মনে রাখা দরকার যে আমাদের brain কিন্তু মোটের ওপর এক সময়ে একটাই কাজ করার মতো করেই সেট করা।

Multitasking এর কিছু সমস্যার বিষয়ে সংক্ষেপে আলোকপাত করা হল :

1. বেশির ভাগ সময়ে কিন্ত আমরা আসলে একসাথে দুটো কাজ না করে দুটো কাজের মধ্যে খুব তাড়াতাড়ি switch করি। বারবার দ্রুততার সাথে এই সুইচ করা থেকে খুব সহজেই ক্লান্তি আসে। এর ফলে stress হয় এবং পরবর্তীকালে depression বা anxiety হতে পারে। খুব কম সংখ্যক লোকই প্রকৃতপক্ষে একই সময়ে একাধিক কাজ করতে সক্ষম হন। তারা ব্যতিক্রম। মানুষ ছাড়াও পায়রা ( pigeon) mt করতে পারে বলে আধুনিক গবেষণায় প্রমাণ মিলছে।

2. কর্মক্ষমতা ও কর্মদক্ষতা কমে ( decreased productivity): একাধিক বিষয়ে মনযোগ ভাগ করে নেওয়ায় কোনো কাজই খুব ভালোভাবে হয় না। প্রচুর ভুলত্রুটি হয়ে পড়ে।

3. Decreased working and long term memory: যেহেতু কাজে ও পারিপার্শ্বিক পরিবেশ মননিবেশ করা হয় না, ফলে সমস্তকিছু ঠিকমতো স্মৃতিতে গাঁথা হয়ে ওঠে না।

4. ব্যবহার ও কথাবার্তায় কু-প্রভাবPoor communication: যখন কেউ কোনো কাজে মন দেওয়া অবস্থায় অপর কারও সাথে কথা বলেন, সাধারণত অবচেতনভাবেই কথার তুলনায় কাজ অগ্রাধিকার পেয়ে থাকে। ফলে এরকম অবস্থায় কথাবার্তায় স্বাভাবিক সৌজন্যতা, শিষ্টাচার বা পরিশীলিত ভাব বজায় রাখতে পারেন না।

কিভাবে MT বন্ধ /নিয়ন্ত্রণ করবেন:

1. সকালে ওঠামাত্র ফোন ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করবেন না।
2. অপ্রয়োজনীয় ও তুচ্ছ distractor গুলোকে চিনে নিয়ে তাদের এড়িয়ে চলুন।
3. "না"  বলা প্র্যাকটিশ করুন। সবার yes man/woman হলে ঘাড়ে এত দায়িত্ব এসে পড়বে যে সেসব 24 ঘন্টায় সারার নয়। ফলে mt করার প্রবণতা বেড়ে যাবে।
4. আলাদা সময়ে সমস্ত কাজের রুটিন করে তা মেনটেন করুন।
5. কাজের জায়গা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন এবং গোছানো রাখুন। নইলে ইম্পর্ট্যান্ট কাজ করতে করতে এটা ওটা খুঁজতে বা গোছাতে হতে পারে।
6. বিশেষ বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কাজ করার সময় অন্য কোনো বিষয়ে মাথা ঘামাবেন না। বিশেষ করে কাজের prime time এ একদমই নয়।

 

   

সূচিপত্র

কল্পবিজ্ঞান

গল্পবিজ্ঞান

বিজ্ঞান নিবন্ধ

পোড়োদের পাতা


Copyright © 2011. www.scientiphilia.com emPowered by dweb