সুন্দরবনের সুন্দর কথা

লেখক - ডাঃ অরুণাচল দত্ত চৌধুরী

 

সুন্দরবনে বেড়াতে যাবে?

গহীন সেই এক বন। অজস্র দ্বীপের মধ্যে দিয়ে বয়ে গেছে খাড়ি। দ্বীপগুলি জোয়ার এলে জল থই থই। আবার ভাঁটায় জল নেমে গেলে থকথকে কাদা আর শ্বাসমূলে ভরা অতি দুর্গম ডাঙা। সেখানে ডাঙায় বাঘ, জলে কুমির। শুধু কি তাই? ডাঙায় বহু পশু, পাখি, মৌমাছির ঝাঁক। জলে প্রচুর মাছ আর কাঁকড়ার মত কত না জলজ প্রাণী।

আজ সেই সুন্দরবন নিয়ে অন্য একটা গল্প শোনাই তোমাদের। তোমরা যারা ছোটো, সেই বন্ধুরা "সুনামি" শব্দটা কেউ হয়তো শুনেছ। অনেকেই আবার শোনোওনি। আমি নিজেও ২০০৪ সালের ২৬শে ডিসেম্বরের আগে শুনিনি। সে'দিন দক্ষিণ সুমাত্রায় এক ভূমিকম্প হয়েছিল। রিখটার স্কেলে ৯এরও ওপরে ছিল তার অভিঘাত। সেই সময় তার দরুণ ভারত মহাসাগরের বিভিন্ন উপকূলে এই সুনামি আছড়ে পড়েছিল।  ভূমিকম্পের ফলে সমুদ্রের তলদেশে এক বিপুল বিপর্যয়ের ফলে তৈরি হওয়া এক বিরাট ঢেউ সৃষ্টি হয়েছিল। প্রায় তিরিশ মিটার(একশ ফুট) উচ্চতার এই ঢেউয়ে উপকূলগুলির প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষ মারা যান।  ভারতবর্ষে মারা যান প্রায় দশ হাজার মানুষ।

কিন্তু অবাক কাণ্ড, আমাদের বাড়ির পাশের সমুদ্র ঘেঁষা সুন্দরবনে কিন্তু এই সুনামি প্রায় কোনও ক্ষতিই করতে পারে নি। কেন?

এক কথায় তার উত্তর হচ্ছে সেই সুনামি নামের রাক্ষুসে ঢেউকে বুক দিয়ে রুখেছিল সুন্দরবনের সুবিস্তীর্ণ ম্যানগ্রোভ অরণ্য। ম্যানগ্রোভের একটা চমৎকার বাংলা রয়েছে। লবণাম্বুজ উদ্ভিদ। মানে উপকূলের নোনা জলমাটিতে যে গাছ জন্মায়।

একশোটিরও বেশি গাছ সুন্দরবনের ম্যানগ্রোভ বাস্তুতন্ত্রে জন্মায়। কয়েকটি ম্যানগ্রোভ গাছের উদাহরণ: সুন্দরী (Heritiera fomes), গরান, গেঁওয়া (Excoecaria agallocha), কেওড়া (Sonneratia apetala) এইসব নামের গাছ।

সুন্দরবন খুব সুন্দর তো বটেই। কিন্তু সুন্দরবনের নামটা এসেছে ওই ওপরে বলা সুন্দরী গাছের নাম থেকে।

এই ম্যানগ্রোভের দেওয়ালই আবার সুন্দরবনে রুখে দেয় উপকূলীয় ঝড় আর তার সঙ্গে ধেয়ে আসা সামুদ্রিক প্লাবন। মাটি ক্ষয়ে গিয়ে সমুদ্র এগিয়ে আসে না তাও এই ম্যানগ্রোভ অরণ্যের জন্য। সব মিলে এই বন আমাদের সম্পদ শুধু নয় ঢাল।

তাই উপকূলের সমুদ্রঝড় আর প্লাবনের হাত থেকে নিরাপত্তার জন্য সুন্দরবনের এই ম্যানগ্রোভ  অরণ্যকে বাঁচাতেই হবে।

সূচিপত্র

কল্পবিজ্ঞান

গল্পবিজ্ঞান

বিজ্ঞান নিবন্ধ

পোড়োদের পাতা


Copyright © 2011. www.scientiphilia.com emPowered by dweb