ভয়ঙ্কর এক দিনের কথা

লেখক - ডঃ দীপঙ্কর বসু

                                                                                     

ডিসেম্বর মাসের তৃতীয় সপ্তাহ। শীতটা এখনও তেমন ভাবে জাঁকিয়ে বসে নি। সে দিনও আমরা সবাই উপস্থিত হয়েছি পরাণ দার দোকানে আমাদের রবিবারের আড্ডায়। সবাই আসলেও আড্ডা তিন সপ্তাহ ধরে একেবারেই জমছে না। আর জমবেই বা কি করে! আড্ডার মধ্যমণি নকা মামারই তো দেখা নেই শেষ তিন রবিবারে। কিছুদিন ধরে শরীরটা ঠিক সাথ না দেওয়ায় না পারছেন তিনি কোন রোমহর্ষক অভিযানে অংশ নিতে, না পারছেন কোন বৈজ্ঞানিক কর্মকান্ডে যুক্ত হতে! এসে দেবাশীস বাবুর কাছে শুনলাম অনেকটাই ভালো আছেন। তাই হয়তো বা আজ আসতে পারেন। তবে আসলেও কোন জমাটি গল্প যে আজ ওঁর কাছ থেকে পাওয়া যাবে না এব্যাপারে সকলেই নিশ্চিত। সকলেই যখন খানিকটা মুষড়ে পড়েছে তখন অপূর্ব বাবুর এক খোঁচা আড্ডায় খানিকটা গতি আনলো।

 “ আজকাল অনেকেই দেখছি বস্তাপচা কিছু হাস্যকর হরর গল্প লিখে নিজেকে একেবারে হিচকক মনে করছে। ” অপূর্ব বাবুর খোঁচাটা যে গোবিন্দবাবু মানে সাহিত্যিক ঢোল গোবিন্দ কে উদ্দেশ্য করে তা বুঝতে কারও অসুবিধা হল না। খুব সম্প্রতি ওঁর হরর গল্পের একটি সংকলন বেরিয়েছে। গোবিন্দ বাবু প্রচন্ড রেগে গিয়ে বললেন, “ তা আপনি একটা আসল কাঁপুনি ধরানো গল্পই লিখুন না।” হরর অর্থাৎ ভীষণ ভয় ধরানো গল্প নিয়ে যখন বাদানুবাদ যখন বেশ উতপ্ত হয়ে উঠেছে তখনই আমাদের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আসরে অবতীর্ণ হলেন নকামামা।

শারীরিক ধকলে কাহিল নকামামা দেখলাম বেশ ম্রিয়মাণ। বাদানুবাদের বিষয় হরর গল্প জানা সত্ত্বেও এ নিয়ে কোন মন্তব্য করলেন না। পরাণ দার দেওয়া স্পেশ্যাল চা পান করার দিকে মনোযোগ দিলেন। বাধ্য হয়ে ওঁকে উস্কে দেওয়ার জন্য বললাম, “মামা, আপনার তো নিশ্চয় ভীষণ ভয় ধরানো ঘটনার অভিজ্ঞতা আছে, তার দু একটা আমাদের শোনান।”গোবিন্দ বাবু টিপ্পনি কেটে বললেন, “মামা ভীতু  মানুষ, কোন হরর ব্যাপারের মধ্যে ওঁর থাকার কোন সম্ভাবনা নেই। শুধু শুধু এসবের মধ্যে ওঁকে টেনো না।”গোবিন্দ বাবুর দিকে তির্যক দৃষ্টিতে একবার তাকিয়ে বিজ্ঞানের শিক্ষক অপূর্ব বাবু বললেন,“মামা, বিজ্ঞানের সঙ্গে যুক্ত হরর ঘটনার অভিজ্ঞতা নিশ্চয় আপনার অনেক আছে। তার একটা আমাদের শেয়ার করতেই হবে।”

অপূর্ব বাবুর পীড়াপীড়িতে অবশেষে মুখ খুললেন নকা মামা। বললেন, “হরর ঘটনা কিনা জানি না,তবে একবার এমন এক ঘটনার সম্মুখীন হয়েছিলাম যা আমার কাছে খুব রোমহর্ষক লেগেছিল। তবে প্রথমেই বলি ঘটনাটি কোন ভূতপ্রেত বা খুনখারাপির নয়।”আমি বললাম, “তাই বলুন, আমরা শুনতে চাই।” নকা মামা শুরু করলেন তাঁর গল্প।

 ঘটনাটি ১৯৮০ সালের। তখন আমি যৌবনের একেবারে প্রাথমিক লগ্নে। কাজ করি এক বিখ্যাত ওষুধ কোম্পানির কেমিক্যাল প্ল্যান্টে শিফট কেমিস্টের পদে। এই ঘটনার চার বছর পরে ১৯৮৪ সালে ভূপালে ঘটেছিল কুখ্যাত মিথাইল আইসোসায়ানেট গ্যাসের ট্রাজেডি।

আগের দিন শরীর খারাপের জন্য ছুটি নেওয়ায় আমার সকালের শিফটের ডিউটি পরিবর্তন হয়ে বিকালের শিফটে হয়ে গিয়েছিল। একটা থেকে নটা পর্যন্ত শিফট। একটায় পৌঁছে গিয়ে প্ল্যান্টের সমস্ত কাজ কর্ম সেরে চারটায় শিফট কেমিস্টদের জন্য নির্দিষ্ট ঘরে গেলাম। সেখানে বসে জেনারেল শিফটের শিফট কেমিস্ট এবং প্রোডাকশন ম্যানেজারের সঙ্গে পরের দিন কাজকর্ম এবং পরের সপ্তাহের কাজের পরিকল্পনা নিয়ে অনেক কথা হল। এরপর পাঁচটায় ছুটি হয়ে যাওয়ায় জেনারেল শিফটের অন্যান্যরা এবং উচ্চপদস্থ সকলে বাড়ির পথে বেড়িয়ে গেলেন।

আমাদের ঐ কারখানায় বিভিন্ন ওষুধের জন্য অনেক রাসায়নিক পণ্য তৈরি হত। প্রত্যেকটি রাসায়নিক পণ্যের আলাদা আলাদা প্ল্যান্ট ছিল। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় প্ল্যান্টটিতে ফেনল, ক্লোরিন, আয়ডিন, ঘন সালফিউরিক অয়াসিড, নাইট্রিক অ্যাসিড প্রভৃতি অনেক বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ ব্যবহার করা হত।

তখন ছটা বাজে। প্ল্যান্টের অনেকেই বিকালের টিফিনে গেছে। আমি আমাদের জন্য নির্দিষ্ট ঘরে বসে আগের শিফটের লগবুক দেখছিলাম তখন হঠাৎই ফেনল-ক্লোরিনেশন প্ল্যান্টের অনেক দিনের পুরানো দক্ষ কর্মী দিলীপ বাবু ছুটতে ছুটতে এসে বললেন, “ স্যার,তাড়াতাড়ি চলুন, ক্লোরিন সিলিন্ডারের থ্রেড কেটে গিয়ে ক্লোরিন লিক্‌ করছে।” অজিত বাবু নামের একজন বরিষ্ঠ কর্মীকে রক্ষণাবেক্ষণ দপ্তরে পাঠিয়ে দৌড়ে গেলাম দিলীপ বাবুর সঙ্গে। যা দেখলাম তাতে তো আমার আত্মারাম খাঁচা। থ্রেডের জায়গা দিয়ে অল্প মাত্রায় ক্লোরিন বেরোচ্ছে লম্বা করে রাখা ৯৮ কিলোর সিলিন্ডার থেকে। রক্ষণাবেক্ষণ দপ্তরের কর্মীরা এসে কিছুই করতে পারলেন না। সে সময়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত খারাপ। মোবাইল তো ভারতবর্ষে আসেই নি। টেলিফোনের অবস্থাও ছিল অত্যন্ত শোচনীয়। সেদিনও আমাদের ওখানে একটা লাইন চলছিল। বাকিগুলো খারাপ ছিল। তিন চার দিন আগে খবর দিলেও টেলিফোন অফিস থেকে কেউ আসে নি তখনও। যা হোক অনেক চেষ্টা করে কোনমতে ফ্যাক্টরি ম্যানেজারকে খবরটা দেওয়া গেলেও দমকল আর পুলিশকে যোগাযোগ করে সম্ভব হল না। বিষম ভয়ে দরদর করে ঘামতে শুরু করলাম আমি। এর মধ্যে সমস্ত প্ল্যান্ট থেকে লোক জমতে শুরু করেছিল। দুজন সুপারভাইজারকে কাছাকাছি যেন কেউ না যায় তা দেখার নির্দেশ দিয়ে প্ল্যান্টের জরুরী কাজে রাখা গাড়ী নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম দমকলের উদ্দেশ্যে। ”

সুযোগ পেয়ে ফুট কাটলেন গোবিন্দ বাবু। “ আপনি ঐ শিফটের মাথা, তা সত্ত্বেও আপনাকেই যেতে হল দমকলের কাছে!”

“বললাম, হ্যাঁ যেতে হল কেননা ঘটনাটি এত অভিনব ও ভয়ঙ্কর যে অন্য কেউ দমকলকে বিষয়টির গুরুত্ব বোঝাতে পারবেন কি না এ ব্যাপারে সন্দেহ থাকায় সকলে আমাকেই যেতে বলল। আমাদের গাড়ির ড্রাইভার অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে জ্যাম কাটিয়ে দমকলের অফিসে যাওয়ার পরে জানতে পারলাম ওটি পনেরো দিন আগে আরও দূরে চলে গেছে। উত্তেজনায় হৃদপিন্ড এমন লাফাতে শুরু করল মনে হল ফেটে গিয়ে টুকরো টুকরো হয়ে বেরিয়ে আসবে। গাড়ী নিয়ে তড়িঘড়ি গেলাম সেখানে। খানিক সময় এর তার কাছে দরবার করার পর দমকলের লোকেদের ব্যাপারটা বুঝিয়ে ফ্যাক্টরির ঠিকানা দিয়ে কেমনভাবে যেতে হবে তাও বুঝিয়ে গাড়ী নিয়ে আবার বেরিয়ে পড়লাম ফ্যাক্টরির দিকে। যাওয়ার পথে থানা পড়ায় ড্রাইভার বলল থানায় টেলিফোন পাবেন। ওখান থেকে প্রডাকশন ম্যানেজার ঘোষাল বাবুকে ফোন করতে পারবেন। গেলাম ওর সঙ্গে থানায়। বুঝিয়ে বললাম সমস্যাটি। ফোন করতে দিলেন ওরা। ঘোষাল বাবুকে খবর দিয়ে বেরোবার উপক্রম করতেই এক অফিসার আমাদের জেরা করতে আরম্ভ করল ব্যাপারটি নিয়ে। আমি সংক্ষেপে ব্যাপারটা বলে বললাম, “এখন আপনাকে বিস্তারিত বলতে পারবো না , এখনই আমাকে যেতে হবে। আমি এই শিফটের চার্জে আছি।” ওঁর উদ্দেশ্য বুঝে দেরি না করে তাড়াতাড়ি বেরিয়ে পড়লাম।

 যখন ফ্যাক্টরিতে পৌঁছলাম দেখলাম পিছনে পিছনে পুলিশরাও এসে গিয়েছে। গিয়ে দেখলাম আশেপাশের লোকেরাও গেটের বাইরে ভিড় করেছে খবর পেয়ে। ভিতরে গিয়ে দেখলাম শ্রমিকরাও জটলা করছে এদিক ওদিকে। আমাকে দেখে কয়েকজন এগিয়ে এসে জানালো যে দমকলের লোকেরা বলেছে ওরা কিছু করতে পারবে না। গ্যাস বন্ধ করার ব্যাপারে ওদের কোন কিছু জানা নেই। আমি তাড়াতাড়ি এগিয়ে ওদের মাথাকে জিজ্ঞাসা করতে তিনি জানালেন এ ব্যাপারে সদর দপ্তরে জানাতে হবে। ওরা যোগাযোগ করতে চেষ্টা করছে। আমার তো তখন পাগলের মত অবস্থা। মনে হচ্ছিল মাথার চুল ছিড়ি। যদিও তাতে সমাধান কিছুই হবে না। সিনিয়ররাও কেউ এসে পৌঁছায় নি। ওদিকে আস্তে আস্তে গ্যাস ছড়িয়ে পড়ছে তার আভাস পাচ্ছি। চোখ জ্বলছে। কারখানার চারপাশে ঘন বসতি আছে। গেটের বাইরে আশেপাশের মানুষজনদের হৈ চৈ শুনতে পাচ্ছিলাম। কারখানার অন্য শ্রমিকরাও তখন আমাকে ঘিরে ধরে কারখানা থেকে বেরিয়ে যেতে চাইল। তাদের মধ্যে দু চার জন আমি ছুটি না দিলে গেট খুলে অনুমতি ছাড়াই চলে যেতে সকলকে উস্কাতে লাগলো। আমার তো মাথা খারাপ হওয়ার জোগাড়। কয়েক জন দায়িত্বশীল শ্রমিক আর সুপারভাইজার আমাকে একপাশে ডেকে নিয়ে বলল আর দেরি না করে যেরকমভাবে হোক সিলিন্ডারটিকে নিয়ে গিয়ে  কারখানার ভিতরে অনেকটা দূরে যে পুকুর আছে সেখানে ফেলে দিতে হবে। কিন্তু বলা তো হল কিন্তু সিলিন্ডারের কাছে তো যাওয়া যাচ্ছে না। কটু গন্ধের চোখ আর ত্বক জ্বালানো গ্যাস বেরোচ্ছে। ১৯৭৯ সালে ঘটে যাওয়া পর্তুগালের ক্লোরিন গ্যাস লিকের কারণে ৭৫ জনের সাঙ্ঘাতিক আহত হওয়ার কথা মনে হওয়ায় আমার বুক ধড়ফড় করলেও ওসবে তখন আমল না দিয়ে কয়েকজন মিলে একটি পরিকল্পনা করলাম। রক্ষণাবেক্ষণ বিভাগ থেকে মোটা দড়ি নিয়ে আসা হল। একটি হাতে টানা কাঠের ট্রলি নিয়ে আসা হল। কয়েক বালতি জল নিয়ে আসা হল। দুটো আলাদা দড়িকে ফাঁসের মত করা হল। ঠিক হল হাত মোছার কাপড় জলে ভালভাবে ভিজিয়ে নাকে মুখে বেঁধে দু জন গিয়ে সিলিন্ডারে ফাঁস পড়িয়ে আসবে। পড়ে দুজন একইভাবে নাক মুখ বেঁধে সিলিন্ডারটিকে ঠেলে ট্রলির উপর ফেলে দেবে। আমার খুব চিন্তা হচ্ছিল। কেননা নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি ক্লোরিন শ্বাস নিলে শ্বাস নালী সংকোচন হয়ে শ্বাস কষ্ট শুরু হতে পারে। তার সঙ্গে ত্বক নীল হয়ে সাঁ সাঁ করে নিশ্বাসের শব্দ শুরু হয়ে  কাশিতে রক্ত বেরোতে পারে। তবে তখন ওসব নিয়ে বেশী চিন্তা করার সময় আমার ছিল না। একটাই চিন্তা কি করে কাজটিকে সফল করা যায়। প্রথম আমি ফাঁস লাগানোর জন্য যেতে চাইলেও সকলে বাধা দিয়ে আমাকে পুরো ব্যাপারটিকে পরিচালনা করতে বলল।

আমরা কয়েকজন সিলিন্ডারের খানিকদূর পর্যন্ত এগিয়ে গেলাম। সকলেরই নাকে মুখে জলে ভেজানো কাপড়। পরিকল্পনা মত প্রথম দুজন ফাঁস নিয়ে সিলিন্ডারের দিকে এগিয়ে গেল। আমার বুক ঢিপঢিপ করতে লাগলো। সকলেরই চোখে মুখে উৎকণ্ঠা আর কি হয় কি হয় ভাব। যাই হোক সমর আর রাজেন গিয়ে দৌড়ে ফাঁস লাগিয়ে চলে এল। ফাঁস লাগিয়ে এসে রাজেন মাথা চেপে বসে পড়ায় অনেকেই বেশ ভয় পেয়ে গেল। আমিও প্রমাদ গুনলাম। আমি রাজেনকে ডিসপেনসারিতে পাঠিয়ে সমরকে হাত মুখে ভালো করে জল দিয়ে দূরে চলে যেতে বললাম। এই দোলাচলের মধ্যেই শক্তি আর চন্দন অসম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে দৌড়ে গিয়ে সিলিন্ডারটিকে ঠেলে ট্রলিতে ফেলে ঠিক মত রেখে চলে আসতে আবার সকলের মনে সাহস আর আশা জাগলো। পিছনে যারা দেখছিল তারা হৈ হৈ করে আমাদের উৎসাহ দিতে লাগলো। তার পরের টিমে হরদেও, শ্রীদাম প্রভৃতি দশ জন ছিল। প্রত্যেক দুজন দুজন করে ট্রলিটা টেনে খানিকটা করে নিয়ে আসবে এমন কথাই হয়েছিল। সেইমতই কাজ হল। আমি ভেজা রুমাল নাকে চেপে খানিক আগে আগে চললাম। পালা করে টেনে টেনে সিলিন্ডারটিকে পুকুরের কাছে নিয়ে গিয়ে আমরা অনেক কষ্টে ট্রলি সমেত সিলিন্ডারটিকে ঠেলে ফেলে দিলাম পুকুরের জলে। আমাদের কর্মীরা সকলে চীৎকার করে আমাদের সাবাসি জানাচ্ছিল। দমকল আর পুলিশের লোকেরা হতবাক হয়ে সব দেখছিল। এমন অভিনব ঘটনা তারা কোনদিন দেখেছিল কি না তা নিয়ে অনেকেরই মনে সন্দেহ ছিল। ইতিমধ্যে ফ্যাক্টরি ম্যানেজার, প্রোডাকশন ম্যানেজার সকলে এসে গিয়েছিল। তারাও অবাক হয়ে গিয়েছিল আমাদের কাজকর্ম দেখে। ওঁরা আমাদের সকলকে হাসপাতালে পাঠিয়ে দিলেন। প্রাথমিক শুশ্রূষার পরে সমর,শ্রীদাম আর রাজেন ছাড়া আমাদের সকলকে ছেড়ে দেওয়া হল। ওদের মধ্যে রাজেন ছাড়া সকলকে একদিন পর্যবেক্ষণে রেখে পরের দিন ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। রাজেনকেও তিনদিন বাদে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। এটাকে আপনারা একটি কেমিক্যাল হরর ঘটনা বলতে পারেন আবার ইচ্ছে হলে সাধারণ ব্যাপারও বলতে পারেন। তবে এমন ভাবেই জন্ম হয়েছিল ভূপালের ঘটনা। ক্লোরিন গ্যাসের লিকের কারণে বহু মানুষের আহত হওয়ার ঘটনাও অনেক আছে। সম্প্রতি বন্দর শহর আকাবায় অনেক লোকের এর ফলে মৃত্যুও হয়েছে। আমার সঙ্গে থাকা কিছু অসীম সাহসী মানুষ না থাকলে এবং তারা সে সময়ের উপযুক্ত পরিত্রাণের পদ্ধতি বের করতে না পারলে সেদিনের ঘটনা যে ভুপালের মত বড় ঘটনা না হলেও একটি ছোট মাপের দূর্ঘটনার জন্ম দিত এ ব্যাপারে আমি নিশ্চিত।

ঘটনাটি আমাদের একেবারে হতভম্ব করে দিয়েছিল। পরাণ দা মুগ্ধ দৃষ্টিতে নকা মামার দিকে তাকিয়ে বললেন, “ ওই বয়সে মাথা ঠান্ডা রাইখ্যা অ্যামোন কাম হেইয়া ক্যাবল মামার পক্ষেই সম্ভব।” কথাটা শুনে অসুস্থতার জন্য ক্লিষ্ট মামার মুখেও মৃদু হাসির রেখা ফুটে উঠল। তারপর কারোকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়ে চটি পায়ে গলিয়ে মামা হাঁটা দিলেন বাড়ির দিকে। আমরা এমন একটি সত্যিকারের কেমিক্যাল হরর কাহিনী শুনে খানিকক্ষণ স্তব্ধ হয়ে বসে থেকে খানিকবাদে উঠে পা বাড়ালাম যে যার বাড়ির দিকে।                    

                                               

সূচিপত্র

কল্পবিজ্ঞান

গল্পবিজ্ঞান

বিজ্ঞান নিবন্ধ

কল্পবিজ্ঞানের ছড়া


Copyright © 2011. www.scientiphilia.com emPowered by dweb